যত বেশ, তত শেষ | একটি ছোটগল্প ।
শুভ বিকেল।
বিডিকমিউনিটির সবাইকে স্বাগতম ও শুভেচ্ছা জানাই। দীর্ঘ একটি সময় পর উক্ত কমিউনিটিতে বাংলায় কিছু লেখালেখি নিয়ে হাজির হয়েছি। ইতোমধ্যে অনেক বছর গড়িয়ে গিয়েছে, হাইভ ইকোসিস্টেমে বেশ কিছু পরিবর্তন হয়েছে, হাইভ টোকেনের মূল্য কারেন্সি মার্কেটে পরিবর্তিত হয়ে যাওয়ার ফলে অনেক ইউজার বিরতি নিয়েছিল। যা হোক, আশা করি উক্ত কমিউনিটির পুরনো সুদিন ফিরে আসবে এবং আমরা আবার একটি নান্দনিক হাইভ ইকোসিস্টেম দেখতে পাবো।
আমি একজন সাহিত্যিক হিসেবে স্বরচিত কিছু ছোটগল্প, মুক্ত রচনা ও ধারাবাহিক কিছু পোস্ট শেয়ার করবো বলে আশা করি। উক্ত রচনায় কিছু ভুলত্রুটি হতে পারে, সেজন্য পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিচ্ছি আগেভাগে। সবাইকে সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ এবং প্রত্যাশা রাখি যাতে করে পোস্ট পাঠ শেষে একটি গঠনমূলক মন্তব্য প্রদান করবেন। সাহিত্যকর্ম ও দৈনন্দিন ব্লগ লেখা অনুশীলন একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক যেটি হাইভ নামক অনলাইন জার্নালে ব্যাক্তি জীবনে গুরুত্ববহ একটি দিক হতে পারে।
আজকের মতো এ পর্যন্তই, পরবর্তীতে আবার অন্য কোন লেখা নিয়ে হাজির হবো।
মূল প্রসঙ্গ।
মানুষের জীবন খুবই ক্ষণস্থায়ী। এ জীবনের নেই কোন নির্ধারিত দিন ও তারিখ যা কখনো মানুষকে সুনিশ্চিতভাবে স্থির হতে সাহায্য করবে। পৃথিবীতে জীব মাত্রই প্রকৃতির অদৃষ্টের কাছে নিজেকে বিসর্জন দিতে শিখে যাওয়া কোন সত্তা যা জীবনের মর্ম উপলব্ধি করতে শেখায়। তার পরতে পরতে রয়েছে ঝুঁকি, অনিশ্চয়তা আর একটি অসংজ্ঞায়িত যাত্রা যা জানে না কোথায় থামতে হবে।
সেলিম একটি স্থানীয় নগরে নিজ জীবিকা অর্জনের জন্য একটি ব্যবসায়ী এজেন্সির শরণাপন্ন হয়েছে যেটি সবসময় নতুন নতুন লোক নিয়োগ করতে তৎপর। তাদের কর্মযজ্ঞে স্থান করে আছে, মুনাফা অর্জন এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক বাজারে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এক দূরভীসন্ধি। অর্থের লেনদেন গড়ে ওঠার জন্য বেশ কিছুকাল সময় নেওয়ার পরে কোম্পানিটি বেশ দারুণ মুনাফা অর্জনে সফল হয়। কিন্তু তারপরে আরো অনেক মাস গড়িয়ে গিয়েছে।
সেলিম একটি মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছে যারা নদীর জলে কূল হারানো একটি গোষ্ঠী যারা জীবিকার খোঁজে, নিজদেের নতুন বসতি স্থাপনের জন্য নতুন জেলায় গিয়ে উঠেছো। তাদের বাস্তু হারিয়ে গিয়েছে আর কেউ কেউ ছড়িয়ে ছিটিয়ে নতুন একটি অঞ্চলে নিত্যনতুন জীবিকায় নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে। সে দেখেছে নদীভাঙন কত দ্রুত ঘটে যায় আর তার চেয়েও দ্রুতগতিতে মানুষ তাদের ভিটে মাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়।
যেমনটি বলেছিলাম, জীবনের যে অংশ ভীষণ নাটকীয় আর ক্রমশ অনিশ্চয়তার কারণে তা বিপদজনক রূপ ধারণ করে, তার কোন নিস্তার নেওয়ার সুযোগ থাকে না। হয়তো নদীর এক পাড়ে চর গজিয়ে যাবে আর অন্য পাড় ভেঙে বিলীন হয়ে যাওয়ার দিকে চলে যাবে। মানুষের খুব বেশি কিছু করার থাকে না সে দিকে, যদিও প্রতিদিনকার লেনাদেনা থেমে থাকবার নয়, তা স্বাভাবিক গতিয়ে এগিয়ে যাওয়ার মাঝে নিজের রূপ দেখতে পায়।
সেলিমের পরিবার নতুন একটি জেলায় যখন উঠলো তখন তাদের কোন অবস্থা নেই, ঘরবাড়ি ভিটেমাটি আর কপর্দকহীন অবস্থায় তাদের একমাত্র চাওয়া পাওয়া হলো কোনক্রমে নিজেদের একটি অবস্থান গড়ে নেওয়া। তাতে হয়তো মাসের পর মাস সময় গড়িয়ে যাবে, তবে তাদের হাতে আর কোন উপায় নেই। এবার শুধু যতটুকু লেখাপড়া ও বিদ্যাশিক্ষা তারা রপ্ত করতে পেরেছ, তা সম্বল করে এগিয়ে যেতে হবে।
সে এজেন্সির মালিকের কাছে জানতে চায়, কিভাবে তাদের উপকার হতে পারে যদি সে আরো কিছু মানুষকে কোম্পানির মুনাফার স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে। এদিকে কোম্পানিটির মুনাফা কৌশল ও নীতিপদ্ধতি পরিবর্তিত হয়ে চলেছে, কিছুই আর বছর দুয়েকের ব্যবধানে আগের মতো নেই। সেলিম বছর দুয়েকের ব্যবধানে বেশ মুনাফা তৈরি করতে পেরেছে, নিজের একটি ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পেরেছে আর তার পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না।
সেলিম তার ব্যক্তিগত জীবনে ভীষণ সুখী দীর্ঘ বছর দুয়েকের সংগ্রামের পর, সে নিজের একটি পরিবার গড়িয়ে নিয়েছে। এইতো কিছু বছর আগে শূন্য হাতে এলো যখন তারপর অনেকদিন তার জীবন বৈচিত্র্যময় রূপের সন্ধান পেয়েছে। সে মনে করতো সাফল্যের একটি নিরেট দিক হলো যদি, নাটকীয় যে জীবন তাকে যদি ধরে রাখা যায়, নিজেকে সে সাথে মানিয়ে নেয়া যায়, তাহলে অনেকক্ষেত্রেই সফলতা ধরা দেবে।
তার দিন বেশ চলছিল।
কিন্তু হঠাৎ বাধ সাধলো এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিপত্তি৷ এজেন্সির যে মূল মালিক সে ভাবছে যদি তার কোম্পানির মুনাফা আরো বাড়ানো যায়, তাহলে তাকে কিছু মানুষকে ঠকাতে হবে। সে লোক ঠকানো কর্ম খুব সহজসাধ্য ব্যপার নয়। তার জন্য তাকে কিছু লোককে কাজে লাগাতে হবে। ঘটনাক্রমে সেলিম উচ্চ আপিস দপ্তর পেল আর তার ফলে তার ওপর দায়িত্ব ন্যস্ত হলো সে কাজ যা তাকে কোম্পানির একটি বিশেষ স্বার্থসিদ্ধির অস্ত্র হিসেবে গড়ে তুললো।
তারপর, একদিন স্থানীয় লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে কোম্পানিটির এমন ব্যবস্থা করলো যাতে তারা আর উঠে দাঁড়াতে না পারে। সেলিম বছর দুই পরে আবার নিজেকে ঋণের দায়ে জর্জরিত দেখতে পেল। যত বাড়লো, দিনের শেষে ততই কমে গেল।
